Home News খালেদা জিয়ার আজকের পরিণতির জন্য যারা দায়ী

খালেদা জিয়ার আজকের পরিণতির জন্য যারা দায়ী

1 min read
0
124

প্রায় দেড় বছর হতে চললো বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। বেগম খালেদা জিয়ার এই কারাবরনের জন্য যদিও বিএনপি নেতারা সবসময় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে সব আঙ্গুলি। বিএনপি মনে করে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগই কারান্তরীন করে রেখেছে এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার শিকার। কিন্তু বাস্তবতা অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, বেগম খালেদা জিয়ার আজকের পরিনতির জন্য আওয়ামী লীগ যতটা না দায়ী, তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী আরো কয়েকজন। যাদের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার আজকের এই পরিনতি , আসুন তাদের কয়েকজনের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক:

১.প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ: ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছিল অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বদরুদ্দোজা চৌধুরীতে অরুচি আসে বিএনপির। ইমপিচমেন্টের মুখে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করেন। তারপর তারা বেছে নেন, একান্ত অনুগত বাধ্যগত বুদ্ধিজীবি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে। ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে যদি রাষ্ট্রপতি না করা হতো, তাহলে হয়তো বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির আজকের করুণ পরিনতি হতো না। কারণ ইয়াজউদ্দিন আহমেদের অতি আনুগত্যের কারণেই তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিশ্বাসযোগ্যতা হারায় এবং নিরপেক্ষতার শেষ ভদ্রতাটুকু মুছে ফেলে ইয়াজউদ্দিন আহমেদ একান্ত অনুগত গৃহবৃত্তের মতো বিএনপির পক্ষে কাজ করা শুরু করেন। যার পরিনতিতে আসে ওয়ান ইলেভেন। অনেকে মনে করেন, ইয়াজউদ্দিন যদি রাষ্ট্রপতি না থাকতেন। একজন ব্যক্তিত্ববান সৎ পরামর্শদাতা রাষ্ট্রপতি যদি তিনি থাকতেন। তাহলে হয়তো বিএনপির এই পরিনতি হতো না।

২.মঈন ইউ আহমেদ: বিএনপির আজকের এই পরিনতির জন্য দ্বিতীয় যে ব্যক্তিকে দায়ী করা যায়, তিনি হলেন জেনারেল (অব:) মঈন ইউ আহমেদ। সাতজনকে ডিঙ্গিয়ে খালেদা জিয়া মঈন ইউ আহমেদকে সেনা প্রধান করেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন যে, তার প্রতি যে পক্ষপাত করা হলো তার প্রতিদান দিবেন মঈন ইউ আহমেদ। তিনি একান্ত অনুগত এবং বাধ্যগত হিসেবেই থাকবেন। কিন্তু মঈন ইউ আহমেদ কাজ করেছেন উল্টো। তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় বিএনপিকে নূন্যতম সমর্থনটুকু দেয়নি। সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার আনার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যে কারণে বিএনপির লোকের মঈন ইউ আহমেদকে বিএনপির লোকের এখন বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করেন। আজকে বেগম খালেদা জিয়া যে মামলাগুলোতে দণ্ডিত হয়েছেন, সেই দুটি মামলাই দায়ের করা হয়েছিল জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের সরকারের আমলে।

৩. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী: ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই জেনারেল হারুনের পর হাসান মশহুদ চৌধুরীকে সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। একজন সৎ সেনা অফিসার হিসেবে তার সুনামও ছিল। মেয়াদ শেষে তিনি অবসরে চলে যান। হাসান মশহুদ চৌধুরীকে সবসময়ই বিএনপির পক্ষের এবং অনুগত লোক হিসেবেই মনে করতো সবাই। তার নেতৃত্বেই বিএনপি অপারেশন ক্লিন হার্ট পরিচালনা করেছিল। কিন্তু হাসান মশহুদ চৌধুরী ওয়ান ইলেভেনের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। এতিমখানা দুর্নীতি মামলা তার হাতেই করা। কাজেই বেগম জিয়ার আজকের পরিনতির জন্য জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীও কম দায়ী নয়।

৪. গিয়াস উদ্দিন আল মামুন: বেগম খালেদা জিয়ার আজকের পরিণতির জন্য সবচেয়ে বেশি যাদের দায়ী করা হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। মনে করা হয় যে, গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বীভৎস রকমের বাণিজ্য মানসিকতা, টেণ্ডারবাজি, নানারকম অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতাই দেশকে ওয়ান ইলেভেনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এজন্য বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক জিয়াও কম দায়ী না। বেগম খালেদা জিয়া যে দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছে সে দুটো মামলাতেই যে অর্থ পাচার হয়েছে তার মুল হোতা ছিলেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার আজকের পরিণতির জন্য তাঁকেও কম দায়ী করা যায় না।

৫. তারেক জিয়া: বেগম খালেদা জিয়ার এই পরিণতির জন্য সবচেয়ে বেশি যাকে দায়ী করা হয় তিনি হচ্ছেন তারেক জিয়া। তারেক জিয়ার ভুল রাজনীতি, প্রতিহিংসা পরায়ণতা এবং ভ্রান্ত নীতির কারণেই আজকে বিএনপির এই অবস্থা তা বিএনপির নেতাকর্মীরা আজ অকপটেই স্বীকার করেন।

কাজেই বিএনপি যতই আওয়ামী লীগকে দায়ী করুক আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়ার আজকের এই পরিণতির জন্য খুব কমই দায়ী। দায়ী হলেন তাঁদের পছন্দের ব্যাক্তিরাই।

বাংলা ইনসাইডার

Load More By Editorial
Load More In News